নোটিশ :
সারা দেশে সাংবাদিক নিয়োগ দিচ্ছে "দৈনিক ভোরের হাওয়া" দ্রুত বর্ধনশীল অনলাইন সংবাদমাধ্যম Daily Bhorer Haoa সারা দেশে জেলা, উপজেলা ও ক্যাম্পাস পর্যায়ে প্রতিনিধি (সাংবাদিক) নিয়োগ দিচ্ছে। যারা সাংবাদিকতায় আগ্রহী, সংবাদ সংগ্রহ ও লেখালেখিতে দক্ষ এবং সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে চান—তাদের জন্য এটি একটি ভালো সুযোগ।
সংবাদ শিরোনাম:
চামড়া খাতের বিপর্যয় ও উত্তরণের পথ কোরবানির ঈদের অনবদ্য কারিগর: এক দিনের কসাইদের আকাশছোঁয়া কদর কুরবানীর অর্থনীতিতে চাঙ্গা গ্রামবাংলা এক লাখ কোটি টাকার প্রবাহে নতুন গতি পেল দেশের স্থানীয় বাজার ​ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত ঈদুল আজহা ​— আরবের ঐতিহ্য, পাশ্চাত্য বাস্তবতা ও বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপট ​ঈদ-উল-আযহার আলোয় মোহাম্মদপুর-আদাবরে অনাগত দিনের নতুন প্রতিশ্রুতি: শারিয়া মোস্তাফিজ সিমির ঈদ বার্তা! ডিএনসিসির পশুর হাটের ইজারা: নিয়ন্ত্রণে বিএনপি নেতাদের একচেটিয়া আধিপত্য ​ত্যাগের মহিমায় দেশবাসীর পাশে: ইশতিয়াক আহমেদের ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ​ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালেন মনোয়ার হাসান জীবন ভালুকাবাসীর সুখ-সমৃদ্ধি কামনায় ঈদ শুভেচ্ছা জানালেন মেয়র পদপ্রার্থী আলহাজ্ব হাতেম খান পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানালো মোহাম্মদপুর প্রেসক্লাব
আসিফ নজরুলকে ৩কোটি টাকা দিয়ে বদলি হয়ে ১বছরে ২০ কোটির সম্পদ গড়েছেন সাভারের ‘বাবা’ ভক্ত সাব-রেজিস্ট্রার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জাকির

আসিফ নজরুলকে ৩কোটি টাকা দিয়ে বদলি হয়ে ১বছরে ২০ কোটির সম্পদ গড়েছেন সাভারের ‘বাবা’ ভক্ত সাব-রেজিস্ট্রার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জাকির

টাঙ্গাইল জেলার মধ্যবৃত্ত ঘরের সন্তান সাভারের বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন ১৬-০৮-২০১৭ তারিখে  জামালপুর( বকশিগঞ্জ) উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার পদে চাকরি জীবন শুরু করে এরপর লক্ষীপুর (কমলনগর), সিলেট (ফেঞ্চুগঞ্জ) ও হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেন সব মিলিয়ে মাত্র ৯ বছরের চাকরি জীবন । অথচ এই অল্প সময়েই দুর্নীতির সংজ্ঞাকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন সাভারের বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন। জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে পোস্টিং বাগিয়ে নেওয়া এবং পাহাড়সম অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

আইন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাভারে আসার আগে জাকির হোসেন হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর এক অদৃশ্য জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় তিনি সাভারের মতো ‘হেলদি’ (দুর্নীতির আখড়া হিসেবে পরিচিত) স্টেশনে বদলি হন। অভিযোগ উঠেছে, তৎকালীন আইন উপদেষ্টার পিএস শামসুদ্দিন মাসুমকে ৩ কোটি টাকা দিয়ে এই বদলি নিশ্চিত করেন তিনি। শামসুদ্দিন মাসুমের বাড়ি বানিয়াচং হওয়ায় সেখানে কর্মরত থাকাকালীনই মাসুমের পরিবারের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন জাকির। সেই ‘ঘনিষ্ঠতা’ এবং ‘বিনিময়’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সাব-রেজিস্ট্রার সমিতির নেতাদের অবাক করে দিয়ে সাভারে পদায়ন পান তিনি।

জাকির হোসেনের মাসিক বেতন ৫০ হাজার টাকার কম হলেও তার জীবনযাত্রা এবং অর্জিত সম্পদ রূপকথাকেও হার মানায়। গত এক বছরে তিনি নিজের, স্ত্রী মনিরা সুলতানা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে ২০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সম্পদ গড়েছেন।

  • ব্যাংক লেনদেন: জাকির ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে গত এক বছরে প্রায় ১২ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

  • স্থাবর সম্পদ: ঢাকায় একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, বাড়ি এবং নিজ এলাকায় বিপুল পরিমাণ জমি কিনেছেন তিনি। বাবা, মা, ভাই ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নামেও এসব সম্পদ কেনা হয়েছে।

অফিসেই ইয়াবা সেবন ও কর্মচারী নির্যাতন

জাকিরের বিরুদ্ধে রয়েছে চরম অপেশাদারিত্ব ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ। নিয়মিত দুপুরের খাবারের পর অফিস কক্ষে বসেই তিনি ‘বাবা’ বা ইয়াবা সেবন করেন বলে একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে। মাদক সেবনের পর প্রায়ই তিনি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন এবং তুচ্ছ ঘটনায় অফিসের কর্মচারীদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেন। তার এই উগ্র আচরণের কাছে সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাধারণ কর্মচারীরা রীতিমতো জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

ছাত্রলীগ নেতা থেকে জুলাই বিপ্লবের আসামি

আশ্চর্যের বিষয় হলো, জাকির হোসেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং জুলাই বিপ্লবের সময় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে সরাসরি মাঠে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ছাত্র হত্যার মামলার একজন অভিযুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে সরকারের এমন সংবেদনশীল পদে বহাল আছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ম্যানেজড দুদক?

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জাকিরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করলেও রহস্যজনক কারণে তা থমকে আছে। অভিযোগ আছে, অঢেল অর্থের জোরে তিনি তদন্তকারী সংস্থাকেও ‘ম্যানেজ’ করে ফেলেছেন। দুদককে অর্থ দিয়ে ক্লিনশিট নেওয়ার যে কালচার তৈরি হয়েছে, জাকির সেই পথেই হাঁটছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের ভিতরেই তিনি ঢাকাতেই কয়েক কোটি টাকা বাড়ি,ফ্লাট,এলাকায় জমি কিনেছেন। যা জেনেও থামাতে ব্যর্থ হয়েছে ‍দুদক। ইনফ্যাক্ট, টাকা দিলে ‍দুদক থেকে ক্লিনশিট পাওয়ার নজির ভুরিভুরি। জাকিরের বিরুদ্ধে চলমান দুদকের অনুসন্ধানও থমকে রয়েছে। কারণ তারা ম্যানেজড।

সাভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একজন খুনের মামলার আসামি এবং মাদকাসক্ত কর্মকর্তার এমন বেপরোয়া দুর্নীতিতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা। প্রশাসনের নাকের ডগায় চলা এই ‘জাকিরনামা’র শেষ কোথায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

তার এই অবৈধ সম্পদের বিষয়ে জানতে সাব রেজিস্ট্রার জাকিরের নাম্বারে একাধিক বার কল দেওয়া হলেও তিনি কলটি রিসিভ করেননি৷

(চলবে… পরবর্তী পর্বে থাকছে জাকিরের বেনামি সম্পদের আরও বিস্তারিত তথ্য)

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক ভোরের হাওয়া © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Desing & Developed BY ThemeNeed.com